এক নক্ষত্র নায়িকার শেষ জীবনের গল্প, এই দুনিয়ায় সব সম্ভব।

এক নক্ষত্র নায়িকার শেষ জীবনের গল্প, এই দুনিয়ায় সব সম্ভব।

Advertisemen


আশির দশকে বুকে ঝড় তুলে দেওয়া নিশা নুরের জীবনের গল্প শুনলে আপনিও শিউরে উঠবেন। সত্যিই সব দিন কাহারো সমান নাহি যায়। আগুনের মতো ঝলসে দেওয়া ফিগারছিল নিশার। নেশা ধরিয়ে দিত নিশার চোখের চমক।
কতরাত কত যুবকের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল নিশা নুর তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। কিন্তু ওই যে বললাম সব দিন কারু সমান যায় না।

শেষ দিকে আইয়ের দ্য গ্রেট (১৯৯০) নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করে আরো সাড়া ফেলেছিলেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে হারিয়ে যান সবার অন্তরালে । একসময় ভুলে যায় সবাই নিশা নুরকে।
টিক টিক টিক (১৯৮১),
কল্যাণা আগাথিগাল (১৯৮৬) এবং
আইয়ের দ্য গ্রেট (১৯৯০) সিনেমার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন এই অভিনেত্রী।
 অথচ পরিবারের খরচ চালানোর জন্য নিশাকে শরীর বিক্রি করতে হচ্ছিল শেষের দিকে। জনপ্রিয়তা কমতে কমতে যখন নিশা রাস্তায় তখন শরীর ছাড়া কিছুই ছিল না ওর। যদিও শরীরের ভাটা আসছিল তখন। যৌবনের মধু ফুরিয়ে এসেছিল ততদিনে। শরীর আর খেলা দেখতে পারছিল না নিশি ডাকের।




সত্যিই অবাক হতে হয়, এক সময়ের রূপের রানী এইচ আই ভি আক্রান্ত হয়ে প্রায় বিনা চিকিৎসাতেই মারা যান ২০০৭ সালে। বিধাতার পরিহাস ছাড়া কিই আর বলব। পর্দায় ঝড় তুলে দেওয়া নিশা নুর যে রাস্তার মিশে যাবে একদিন সে কথা ওর দুশমনরাও কল্পপনা করেনি হয়ত।

যে সব যুবক বা পুরুষ নিশাকে বুকে পাওয়ার স্বপ্নে মেতেছিল একদিন তারা আতংকিত হয়ে গিয়েছিল নিশার শেষ জীবনের ছবিগুলো দেখে। মা মারা যাবার পর নিশা আর পর্দায় কাজ করেনি, কেন নিশা পর্দায় ফেরেনি সে ইতিহাস আজও অজানা। সত্যিই তো মনে প্রশ্ন জাগে, বুকে ঝড় তুলে দেওয়া নুর কেন ফিরল না আর রঙিন দুনিয়ায়! নাকি রাস্তার পাশে শরীর বিক্রির চেয়েও অপমানের ছিল সেই সময়ের ফিল্মি জগত। আপনার কি মনে হয় কমেন্টে জানান।

অনেকেই বলেন জীবনের ফুটন্ত দিনে এক ধনী ব্যবসায়ীর প্রেমে মেতেছিলেন নিশা। কিন্তু নিশা যখন জানতে পারেন যে ওর শরীর খুবলে খাওয়াই ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্য তখন নিশার সব হারিয়ে গেছে। রঙিন জগতও অনেকটা দূরে চলেগেছে তখন। কিন্তু ওই লম্পটের কাছ থেকে নিশা অনায়াসেই আবার ঝলসে উঠতে পারত পর্দায়। কিন্তু কেন যেন নিশা রাস্তাটাকেই বেছে নিয়েছিল। অভিমান নাকি অন্যকোন গোপন কারণ তা আজ আর আমাদের জানার উপায় নেই।



অভাব অনটনই হয়ত নিশাকে বারবার অন্যের বিছানায় যেতে বাধ্য করেছিল। ভাবলে সত্যি কষ্ট হয়। নক্ষত্র যদি আস্তাকুড়ে গড়াগড়ি খায় অবাক হবেন না বলুন। কোহিনুর আর নিশা নুরকে ঝলমলে হতেই সবাই দেখেছে কিন্তু ভাবুন যারা নিশাকে দেখেছে নিচের ছবিটার রূপে। এই তো জীবন, তবুও সব চলছে গতিতে। কে জানে কোন তারা কবে কোথায় ঝরে যাবে

২০০৫ সাল। হুট করে একদিন বুঝতে পারে সে আক্রান্ত হয়েছে এইডসে। তামিলনাড়ুর একটি হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। গল্পের শেষ সেখান থেকেই।




মনে প্রেমের ঝড় তুলে দেওয়া নিশা নুর এডসে আক্রান্ত শোনার পর থেকেই ওকে সবাই ছেড়ে যেতে শুরু করে। সেই মোহিনী হাসি হারিয়ে যায় ধিরে ধিরে। রাস্তার কুকুরের চেয়েও খারাপ ভাবে জীবনের শেষদিনগুলো কাটাতে কাটাতে এক নক্ষত্র নুর হারিয়ে যায় কালের স্রোতে। সাল ২০০৭। আমরা আজ উনার স্মৃতিচারণ করলাম।
এই তো জীবন...
Advertisemen

Disclaimer: Gambar, artikel ataupun video yang ada di web ini terkadang berasal dari berbagai sumber media lain. Hak Cipta sepenuhnya dipegang oleh sumber tersebut. Jika ada masalah terkait hal ini, Anda dapat menghubungi kami disini.
Related Posts
Disqus Comments