ভাতের গল্প

ভাতের গল্প

Advertisemen
www.amarsahitya.com

ভাতের গল্প

            বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়


ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করছে মেয়েটার। বাইরে বেরিয়ে আসার উপায় নেই। বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি। ধোঁয়ার কুণ্ডলীগুলো পাক খাচ্ছে ছোট্ট ঝুপড়িটার ভেতরই। ধোঁয়াগুলোও অবেলায় ভিজতে চাইছে না আজ।
‘মা হইচে ?’
‘আর একটু দাঁড়া, তাহলেই হবেক।’
   আবার সব আগের মতোই চুপচাপ। হাঁড়িতে জল ফুটছে টগবগ করে। ভাত হচ্ছে। গরম ভাত। একটু পরেই ভুরভুর করে গন্ধ উঠবে। গরম ভাতের গন্ধ। খিদের চোটে ধৈর্য টান পড়ছে মেয়েটার।
‘মা হইচে ?’
‘আর একটু দাঁড়া...’ আবার একই উত্তর দেয় হিমানী। ওর পেটেও খিদে নামের আগুনটা জ্বলছে। জীবনের যন্ত্রণাগুলো বুকের ভেতর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে বারবার। এখন শুকনো শরীরে ভাটার টান। ভাতের টান। এখন আর আগের মতো বিছানার ডাক আসে না। কদিনের টানা বৃষ্টিতে পথ ভুলেও পা মাড়ায়নি কেউ হিমানীর ঝুপড়ির দিকে। তবুও পেট ডাকছে। চুঁই-চুঁই শব্দে অবিরাম ডাকছে।
‘মা হইচে ?’

এক পেট খিদে নিয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে মেয়েটা। হিমানী মেয়ের মাথায় হাত বোলায়। চোখের জল মোছে। ঠোঁটে ঠোঁট চাপা দিয়ে গিলে খায় কান্নাটাকে। কান্নার শব্দে মেয়েটার ঘুম ভাঙলে আবার ভাত চাইবে।
  এবার শাড়ির আঁচল দিয়ে ধরে গরম হাঁড়িটাকে উনুন থেকে নামায় হিমানী। তারপর ডাবু দিয়ে হাঁড়ির ভেতরকার পাথরগুলোকে বের করে আনে। রাস্তাধারের পাথরগুলো এতক্ষণ ধরে হাঁড়ির ভেতর ফুটেছে যে, ছাল-ছাড়া সেদ্ধ আলুর মতো মনে হচ্ছে। আজকে রাতে আর তরকারিরও দরকার হবে না।
                                       -০-
Advertisemen

Disclaimer: Gambar, artikel ataupun video yang ada di web ini terkadang berasal dari berbagai sumber media lain. Hak Cipta sepenuhnya dipegang oleh sumber tersebut. Jika ada masalah terkait hal ini, Anda dapat menghubungi kami disini.
Related Posts
Disqus Comments